বর্তমানে স্বাস্থ্য বিষয়ে যারা খুবই সচেতন তাদের জন্য সুখবর হলো, আমেরিকান হার্ট এ্যসোসিয়েশন এর মতে ডিমের কুসুমে ল্যূটেন নামক উপাদান থাকে যা করোনারি হার্ট ডিজিজ এর অগ্রগতির বিরুদ্ধে কাজ করে। সর্বশেষ গবেষণায় জানা যায় প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ্য সবল মানুষ প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারে। কানাডিয়ান খাদ্য গাইড মোতাবেক মাংস ও মাংসের বিকল্প হিসাবে ডিমকে বেশী অগ্রাধীকার দেয়। একটি ডিমে ৬ গ্রাম অতি উন্নত মানের প্রোটিন ও ৫ গ্রাম ফ্যাট বিদ্যমান যার স্যাচুরেটেড বা ট্রান্স ফ্যাট এর পরিমান মাত্র ১.৫ গ্রাম। প্রোটিন শরীরের পেশী গঠন, চুল, চামড়া ও টিস্যূ মেরামতের জন্য অপরিহার্য্য হরমোন, এনজাইম ও এন্টিবডি তৈরী করে। মানুষের সুস্থ্য শরীর গঠনে ২১ টি এমিনো এসিড মূখ্য ভুমিকা পালন করে  কিন্তু আমাদের শরীর অতি প্রয়োজনীয় ৯ টি  এমিনো এসিড তৈরি করতে পারেনা ফলে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়, আর এর জন্য আদর্শ প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট  হল ডিম।। ডিম ধনি গরিব সকলের কাছে অত্যান্ত প্রিয়, মূল্য সাশ্রয়ী এবং সকলের কাছে সহজলভ্য একটি খাদ্য উপাদান। সুস্থ জীবন ধারা বজায় রাখতে প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় ডিমকে অন্তরভ’ক্ত করার ব্যাপারে  আমাদেরই চিন্তা করা উচিত।

নিয়মিত ডিম খাবেন এ কারনে যে-

     >> ডিমের আইরন: কোষে অক্সিজেন সরবরাহ এবং রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করে।
     >> ডিমের সেলেনিয়াম: ভিটামিন ই এর সাথে মিলে এন্টি অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে যা শরীরে টিস্যূকে ভাঙ্গন রোদ করে।
     >> ডিমের ফোল্যাট: নতুন কোষ গঠন ও কোষ রক্ষায় ভ’মিকা রাখে। মায়েদের গর্ভকালিন প্রাথমিক তিন মাস রক্ত স্বল্পতা পূরনে কাজ করে।
     >> ডিমের জিয়েক্সেথিন: বয়সের সাথে সাথে চোখের বিভিন্ন রোগ যেমন, ছানি পড়া ও দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
      >> ডিমের ভিটামিন ‘এ’ কেরোটিনয়েড: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি ও রাতকানা রোগ দুর করে।
     >> ডিমের ভিটামিন ‘ই’ কোষ ও ত্বকে ফ্রি রেডিক্যাল নষ্ট করে স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং ডিমের ভিতর অবস্থিত জিংক ,
    >>  ডিমের ফসফরাস : মা এবং শিশুদের ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। ফসফরাস দাঁত ও হাড় মজবুত করে।
     >> ডিমের কোলিন (Choline): ডিমের কোলিন কার্ডিওভাসকুলার সিসটেম, স্নায়ু যকৃৎ ও মস্তিস্ককে নিয়ন্ত্রন রাখে।
      >> ভিটামিন বি-৬: মানুষের শরীরে ভিটামিন বি-৬ উৎপন্ন হয় না ।  বি-৬ ট্রিপটোফেন হজমে সহায়তা করে।
     >> ভিটামিন বি-১২: খাবারকে ভেঙ্গে শক্তিতে রুপান্তরিত হতে সহায়তা করে ভিটামিন বি-১২। কেন্দ্রিয় স্নায়ু তন্ত্রের রক্ষনা বেক্ষন করে।
     >> ভিটামিন ডি: রক্তরসে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের পর্যাপ্ততা বজায় রাখে। শিশুদের হাড়, দাঁতকে শক্ত ও রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে।
      >> ডিমের জিংক: জিংক মায়ের গর্ভকালিন সময়ে গুরুত্বপূর্ন ভ’মিকা পালন করে, এছাড়া শিশুদের হাড়, দাঁত, উচ্চতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

অনেকে শখ করে নখ বড় রাখে এবং চুলের স্বস্থ্য / সৈান্দয্য নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নাই। নখ ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষা ও কোমল মসৃন স্বাস্থ্যোজ্জল চুলের জন্য ডিমের ভিতর অবস্থিত সালফার এবং ভিটামিন ’ই’ গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখে।

জ্ঞ্যাত বা অজ্ঞাতসারে বিশাল সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি শিল্পকে ঘিরে মাঝে মধ্যেই প্রচার মাধ্যমে বিভ্রান্তিমুলক তথ্য প্রচার হয়ে থাকে। টেনারি বর্জ্য নিয়ে বিভ্রান্তির ছড়ানোর শেষ নেই। পরিসংখ্যান মতে বাংলাদেশে মোট খাদ্য উৎপাদনের মাত্র ০.২ শতাংশের কম খাদ্য টেনারী বর্জ্যে তৈরী হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো  বাংলাদেশে অত্যন্ত বিশুদ্ধ মানের খাদ্য উপাদান, সু-দক্ষ বিশেষজ্ঞদের তত্বাবধান ও আধুনিক মেশিনে পোল্ট্রি এবং মৎস্য খাদ্য উৎপাদিত হয়ে  থাকে। ভোক্তা সাধারন বিভ্রান্ত না হয়ে নির্দিধায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগীর মাংশ রাখতে পারেন। সুস্থ ও মেধা সম্পন্ন জাতি গঠন এবং দেশের প্রয়োজনেই সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে এগিয়ে নেয়া আমাদের সকলের কর্তব্য।


মোঃ নাসির উদ্দীন
এ্যাডভান্সড পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডস লিঃ