বাংলাদেশের বৃহৎ এবং দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শিল্প কৃষির সাব সেক্টর পোল্ট্রি খাত। অর্থনীতির গতি সঞ্চারী এই শিল্প দেশের বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠি এবং তার ক্রমবর্ধমান আমিষ চাহিদার ৮০ শতাংশ সহজলভ্য, সাশ্রয়ীমুল্যে, নিরাপদ সরবরাহকারী। দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার ডিম ও মাংসের মাথা পিছু জাতীয় চাহিদা যথাক্রমে ডিম ১০০-১১০ টি এবং মাংস ৩২-৩৮ কেজি। কিন্তুু মাথা পিছু গ্রহণের হার চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সুস্থ সবল ও মেধা সম্পন্ন জাতি গঠনে নিরাপদ ও পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অপরিহায্য।  একজন কৃষক বা খেটে খাওয়া মানুষের সুস্বাস্থ রক্ষায় একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রানিজ প্রোটিন প্রয়োজন। ১-১৬ বছর বয়সের শিশুদের পরিপূর্ণ শরীর বৃত্তীয় বিকাশে অতিরিক্ত আমিষের প্রয়োজন হয়। প্রাণিজ প্রোটিনের সাপ্লিমেন্ট ছাড়া শরীর বৃত্তীয় বিকাশ বাধা গ্রস্থ হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কল্যাণে আমরা জানতে পারি শিশুর পূর্ণ শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যালান্স প্রানিজ আমিষের ভুমিকা রয়েছে। ১ থেকে ৬ বছরের শিশুরা বয়সের তুলনায় খর্বাকায় হওয়ার পিছনে অপুষ্টি জনিত কারন লক্ষ করা যায়। আমাদের দেশের দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মহিলারা ক্রনিক এনার্জি ঘাটতিতে ভোগে। ফলে প্রজনন কালীন মা ও শিশু স্বাস্থ্য সবসময় ঝুকির মধ্যে থেকে যায়। ডিম সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান। প্রকৃতির অপূর্ব দান ডিম ও ব্রয়লার মুরগীর মাংস থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তার ভিতর মাতা ও শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। আমরা শাকসবজি উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করলেও শ্রমজীবি, স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী না। দেশে প্রচুর সবজি উৎপাদিত হলেও বাজারে এক কেজি করল্লার মুূল্য ৬০-৭০ টাকা, এক কেজি বেগুন ৪০ টাকা, লাউ (মাঝারী) একটি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। আবার শুধু শাক সবজি এবং ভাতের দ্বারা আমিষের চাহিদা মেটানো সম্ভব না। কার্বোহাইড্রেড এবং ফ্যাট মানুষের শরীরে জমা থাকে কিন্তু প্রোটিন প্রতিদিন প্রয়োজন হয়। কার্বোহাইড্রেড সমৃদ্ধ খাবার বেশী খেলে ধীরে ধীরে শরীর স্থুলাকার হয়। বেগুন, করল্লা, লাউ, এর সাথে ডিমের পুষ্টিমান বিশ্লেষন করলে দেখা যায় ঐসব সবজির থেকে চেয়ে ৩-৪ গুন বেশী পরিমান নিউট্রিয়েন্ট ভ্যালু পাওয়া যায়। নিন্মে ডিমের সাথে বিভিন্ন সবজির পুষ্টিমানের তুলনা মুলক ছক দেয়া হল।

উপরের ছক থেকে পুষ্টিমান লক্ষ্য করলে দেখা যায় ডিমে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য প্রাণ যেমন প্রোাটিন, এনাজির্, ফ্যাট ভিটামিন এ, ডি, ই,  বি,-১২, রিবোফ্লাবিন, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস অতিগুরুত্বপূর্ণ কোলিন এবং সেলেনিয়াম উল্লেখযোগ্য পরিমান বেশী। বর্তমান বাজার মূল্যে ১০০ গ্রাম  পরিমান (মাঝারী ২ টি) ডিমের দাম ১০ টাকা কিন্তু সবজির সাথে পুষ্টিমান বিচার করলে ১০০ গ্রাম (মাঝারী ২ টি) ডিমের মূল্য হওয়া উচিত ২০ টাকা অর্থাৎ ৪০ টাকা হালি। এক হালি ডিম একটি পরিবারের একবেলা তরকারীর চাহিদা সাথে পূর্ণ পুষ্টিও মেটাতে সক্ষম।


সবজি মানব শরীরের জন্য অত্যান্ত নিরাপদ এবং উত্তম খাদ্য উপাদান, পাশাপাশি ডিমও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং ১০০% নিরাপদ। আমার এই তুলনা মুলক নিউট্রিয়েন্ট বিশ্লেষনের অর্থ হল পুষ্টিমান বিবেচনায় মূল্যমান নিরুপন ও প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় স্থান নির্ধারন।


এক সময় আমাদের দেশের মানুষ ছিল মাছে ভাতে বাঙ্গালী। গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, প্রত্যেকের বাড়িতে দেশী মুরগী প্রতিপালন গ্রামীন জীবন ধারার একটি অংশ ছিল। প্রকৃতির এই দান কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশের মত স্বল্প আয়ের দেশে নিরাপদ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সহজলভ্য কিন্তু দামে সাশ্রয়ী খাদ্যের অপরিহার্য্যতা দেখা দিয়েছে। আমাদের পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য অনেক আছে। বৃহৎ জনগোষ্ঠির কাছে সহজলভ্য এবং ক্রয় ক্ষমতার নাগালের মধ্যে না হলে যত পুষ্টিমান সমৃদ্ধ হউক না কেন তার থেকে দেশ জাতির কোন উপকার সাধিত হবে না। সেদিক বিবেচনা করলে অধুনা পদ্ধতি উদ্ভাবিত কমার্সিয়াল লেয়ার মুরগীর ডিম এবং ব্রয়লার মুরগীর মাংস পুষ্টিমানে ভরপুর সহজলভ্য এবং মুল্য মানে সাশ্রয়ী ও ১০০% নিরাপদ।


যে শিল্প ২৫-৩০ লক্ষ নারী মিলিয়ে ৭ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে, শহর ও গ্রামের বিস্তর জনগোষ্ঠির কাছে মূল্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং নিরাপদ আমিষ সোর্স এর যোগান দিয়ে চলেছে, সর্বপরি বাংলাদেশে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পোল্ট্রি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রেখে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত সারে সেই  পোল্ট্রি শিল্প বিষয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। অধুনা প্রযুক্তির উদ্ভাবিত ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগীর ডিম পাওয়া না যেত তাহলে দেশী মুরগী এক হাজার টাকায় কেজি কেনাও সম্ভব ছিল না। আর দেশী মুরগীর ডিম আমাদের জন্য সোনার ডিমে পরিণত হত। গরুর মাংস ৬০০-৭০০ এবং খাশির মাংশ ১০০০ টাকায় কিনতে হতো এবং সাধারণ মানুষের জন্য তা হতো সুদুর পরাহত।


মোঃ নাসির উদ্দিন

এ্যাডভান্সড পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডস লিঃ

Email ThisBlogThis!Share to TwitterShare to Facebook