প্রাত্যাহিক সকালের নাস্তায় সুপার ফুড ডিম ছাড়া চলেই না। ডিম পুষ্টিগুনে এমনই সমৃদ্ধ যে, পুষ্টিমান বিবেচনায় আধুনিক খাদ্য তালিকায় ডিম সবার উপরে। Amino acid এর পূর্নাঙ্গ পরিসর ডিমে বিদ্যমান থাকে যা উন্নত প্রোটিন তৈরী করে। উন্নতমানের প্রোটিন মাসল গঠন ও মাসলের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে এবং মানুষকে সারাদিন কর্মক্ষম থাকার শক্তি যোগায়। ক্যালসিয়াম এবং জিংক একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় ডিমে বিদ্যমান। ডিমে প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম কোলিন অাছে। কোষ গঠন ও চর্বি নিউট্রালাইজ এ ভূমিকা রাখে কোলিন। মস্তিস্কে অনুর সংকেত প্রবাহ সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করে কোলিন। ডিম এমন একটি খাদ্য যেখানে পুষ্টির সকল উপাদান বিদ্যমান। এছাড়া একটি ডিম থেকে ৭১ ক্যালোরী শক্তি, ৬ গ্রাম উন্নত মানের প্রোটিন ও ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায়। ডিমে প্রতিটি একক ‘বি’ ভিটামিন বিদ্যমান।
আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ সবল ব্যাক্তি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমানে কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারে। পূর্বে ধারণা করা হতো ডিমে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল মানুষের ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ২০১৩ সালে প্রকাশিত মেটা বিশ্লেষণ জার্নাল জানায় যে প্রতিদিন একটি ডিম খাদ্য হিসাবে গ্রহন করলে হার্ট ডিজিজ বা ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার সাথে সম্পর্কিত নয়।

ডিম কিছু অতি গুরুত্বপূর্ন মিনারেলস এর উন্নত উৎসও বটে। যা অন্যান্য খাদ্যে পাওয়া যায় না। যেমন আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। ডিম ভিটামিন ডি এর উত্তম উৎস যা ক্যালসিয়ামের সাহায্যে শক্ত হাড় গঠনে সাহায্য করে।

বতমান বছর গুলোর বিভিন্ন গবেষনায় জানা যায় ডিম র্পনাঙ্গ পুষ্টি প্রোফাইল সমৃদ্ধ খাবার যা শরিরের কোলেস্টেরল হ্রাসে সহায়তা করে। অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ হওয়ার পরেও ডিম অপেক্ষাকৃত কম ক্যালোরী সমৃদ্ধ খাবার। একটি বড় ডিমে মাত্র ৭২ ক্যালোরী এনার্জি থাকে। ডিমে কোন শর্করা বা চিনি নেই। মাত্র ৫ গ্রাম ফ্যাট বিদ্যামান। যা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার ৭ শতাংশের নীচে।

গরু বা খাসীর মাংশে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। কিন্তু উন্নত প্রোটিন বলতে যা বুঝায় সেটা শুধু ডিমে বিদ্যমান। ডিমে বিদ্যমান ফ্যাট রক্তে তেমন কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করেনা। প্রতিদিন একটি ডিম গ্রহণ মানুষের শরীরে এইচ ডি এল কোলেষ্টোরেল বৃদ্ধি পায়। এইচ ডি এল কোলেষ্টোরেল সাধারনত ভাল কোলেষ্টোরেল নামে পরিচিত। যে সকল মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট মাত্রায় এইচ ডি এল কোলেস্টরল বিদ্যমান তাদের হার্ট ষ্টোকের সম্ভাবনা থাকেনা বল্লেই চলে। তাই সকলে প্রতিদিন একটি করে ডিম খান।