মশা মারতে কামান দাগা, মানে বেশি পয়সা খরচ বা আয়োজন করার আগে প্রকৃতির সাহায্য নিন। এই যন্ত্রণাকর কীটের কামড় থেকে বাঁচার জন্য রয়েছে বিভিন্ন গাছ। যেগুলোর ঘ্রাণ মানুষের ভালোলাগলেও মশাদের জন্য অতি জঘন্য।

গাঁদাফুলের গাছ

উদ্ভিতবিজ্ঞানে এই ধরনের গন্ধযুক্ত গাছ ও ফুলের কথা অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত। আর এসব গাছ নিয়ে উদ্ভিদবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে মশা-মাছি দূরে রাখার কিছু উদ্ভিদ ও ফুলের কথা এখানে জানানো হল।

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য যদি গাঁদাফুলের কথা চিন্তা করেন, তবে আরেকবার ভাবুন। কারণ এই ফুলের গাছ মশা রাখে দূরে।

গাঁদাফুলের রেণু ও পাপড়ি থেকে নিসৃত বিশেষ গন্ধ মানুষের নাকে সুঘ্রাণ হলেও মশার জন্য অসহনীয়। তাই ঘরের সামনের বাগানে, বারান্দা কিংবা জানালার পাশে টবে এই গাছ থাকলে মশার উপদ্রব কমবে।

ব্যাজল

পুদিনা বা ধনেপাতার মতোই সুগন্ধিযুক্ত এই লতাগুল্ম খাবারের স্বাদ বাড়ানোয় সুখ্যাতি আছে।

সেই সঙ্গে মশা-মাছি তাড়াতেও এটি বেশ কার্যকর। কারণ ব্যাজল থেকে বের হওয়া গন্ধ মশা ও মাছি দূরে রাখে। এই গাছও টবে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, ব্যাজল গাছের চাই প্রচুর সূর্যের আলো, পানি এবং এই পানি বের হওয়ার উত্তম রাস্তা।

সিট্রোনেলা

বিশেষ ঘাসজাতীয় এই গাছ পাঁচ থেকে ছয় ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। বাগানের ধারে, কিংবা টবে এই ঘাস রোপন করে রাখতে রাখতে পারেন।

এর বিশেষ গন্ধ মশা দূরে রাখে। আবার এই ঘাস থেতলে তেল বের করে পানিতে মিশিয়ে ঘর মুছলে মশা ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে। তবে টবে রাখলে তাতে ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

পেপারমিন্ট পা পুদিনা

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং খাবারের স্বাদ বাড়াতে মেন্থল বা মিন্ট বেশ সুপরিচিত। তবে মশা তাড়াতেও মেন্থল গাছের তীব্র ঘন্ধ অন্তত কার্যকর। ছোট পাত্র, টব ইত্যাদিতে মেন্থল গাছ রাখা যায়।

চাই আর্দ্র মাটি এবং ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। সবুজ রংয়ের মেন্থল গাছ সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখতে হবে। তবে কিছু জাত মৃদু ছায়াতেও বেড়ে উঠতে পারে।

এছাড়াও রোজমেরি, ক্যাটনিপ এবং বিভিন্ন সুগন্ধি ফুলের গাছেরও মশা তাড়ানি গুণ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু এই গাছগুলো মশার স্প্রে বা কয়েল জ্বালানোর পরিমাণ কমাবে। তবে পুরোপুরি মশার উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য অন্যান্য ব্যবস্থাও নিতে হবে। তারমধ্যে অন্যতম হল ঘরবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। আর গাছে দেওয়া পানি যেন কোথাও না জমে থাকে। না হলে জমা পানিতে আবার মশার ডিম পাড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

 

কপি : ইন্টারনেট বিডি নিউজ ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *